রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ঢাবির অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্ব স্ব নামের পার্শ্বে উল্লিখিত ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এবার গবেষণা ও প্রশিক্ষণে স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, বৌদ্ধতাত্ত্বিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। বর্তমানে ড. সুকোমল বড়ুয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগে সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ একুশে পদকে ভূষিত করেছিল। তিনি ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
।
রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
‘অগ্রদূত’ বৌদ্ধ সংগঠনের ৯ম বর্ষপূর্তি উদযাপন সম্পন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বোয়ালখালী:শান্তি, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন ‘অগ্রদূত’-এর ৯ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের বোয়ালখালীস্থ জ্যৈষ্ঠপুরা অর্হৎ মাহাসি সতিপট্ঠান মহারণ্যে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচি:
উৎসবের শুরুতে সংগঠনের সকল সদস্য চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে সমবেত হন এবং সেখান থেকে জ্যৈষ্ঠপুরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত মহারণ্যে সকালে বুদ্ধ পূজা এবং পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বোয়ালখালীর আমুচিয়া গুচ্ছ গ্রামে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
ধর্মীয় সভা ও দেশনা:
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে উদযাপন পরিষদের সমন্বয়কারী ফাগুন বড়ুয়া সংগঠনের ইতিপূর্বের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং অর্থ সচিব অভি বড়ুয়া পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন। অনুষ্ঠানে দিকনির্দেশনামূলক ধর্মোপদেশ প্রদান করেন অগ্রদূত বৌদ্ধ সংগঠনের ধর্মীয় সম্পাদক ভিক্ষু আনন্দপ্রিয়।
জ্যৈষ্ঠপুরা অর্হৎ মাহাসি সতিপট্ঠান মহারণ্যের অধ্যক্ষ উ. সুমনশ্রী থের সদ্ধর্ম দেশনা প্রদানকালে সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার শেষে অষ্টপরিষ্কার দান, বুদ্ধ প্রতিবিম্ব দানসহ বিভিন্ন দানসামগ্রী উৎসর্গ করা হয়। পরবর্তীতে পূজনীয় ভান্তেদের উপস্থিতিতে বর্ষপূর্তির কেক কাটা হয়।
উপসংহার:দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষ পর্বে বোয়ালখালী থানার শ্রীপুর-পশ্চিম জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামে অসহায়দের মাঝে পুনরায় শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে।
উদযাপন পরিষদ:
উল্লেখ্য, বর্ষপূর্তি সফল করতে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি উদযাপন পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। এতে আহ্বায়ক হিসেবে হিমেল বড়ুয়া, সদস্য সচিব রবিন বড়ুয়া, অর্থ সচিব অভি বড়ুয়া, প্রধান সমন্বয়কারী অভিষেক বড়ুয়া, সমন্বয়কারী ফাগুন বড়ুয়া এবং সদস্য হিসেবে রূপনা বড়ুয়া ও ইমন বড়ুয়া গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পার্বত্য চট্টগ্রামের মেয়ে হেমা চাকমা ডাকসু নির্বাচনে জয়ী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের মেয়ে হেমা চাকমা। ঢাবির ছাত্র-ছাত্রী সংগঠনগুলোর জোট ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ থেকে তিনি এই নির্বাচনে লড়েন এবং ৪ হাজার ৯০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন থেকে ডাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
হেমা চাকমা খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ২নং চেঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র চাকমা ও মিনতি চাকমার মেয়ে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী।
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলেন পঙ্কজ বড়ুয়া এবং বৈশাখী বড়ুয়া
বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ বাংলাদেশ ২০২৫-এর শিরোপা জিতল রোবো লাইফ টেকনোলজি
ঢাকা: বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টার্টআপ প্রতিযোগিতা স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ বাংলাদেশ ২০২৫-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিজয়ী হয়েছে রোবো লাইফ টেকনোলজি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তারা ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ পুরস্কার পেয়েছে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে গ্লোবাল স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ পুরস্কারের জন্য পিচ করার সুযোগ পাবে রোবো লাইফ টেকনোলজি।
১৪ আগস্ট, বৃহস্পতিবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই আঞ্চলিক গ্র্যান্ড ফিনালেতে দেশের সেরা ১৫টি স্টার্টআপ দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় মাহামুদুর রহমান ও রওনাক জারিনের দল উইগ্রো প্রথম রানার-আপ এবং হাসিবুল হক প্রত্যয়, নাইমুল আজাদ ও আবু জুনায়েদের দল রকেট ওয়েভ দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছে। শীর্ষ ১০ দল বিশেষ নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথিরা
জমকালো এই সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি’র চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম, ড্যাফোডিল ফ্যামিলির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।
অভিজ্ঞ বিচারক প্যানেল
প্রতিযোগিতার কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিলেন ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিউরশিপ বিভাগের প্রধান মো. কামরুজ্জামান দিদার এবং প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা ও লাইভ শপিং-এর সিইও মো. আশিক খান।
বিচারক প্যানেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেগাসাস টেক ভেঞ্চারসের পার্টনার উইলিয়াম রেইকার্ট উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, জাতীয় পর্যায়ে বিচারক হিসেবে ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. নাজিম হাসান সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ডিভিশনের পরিচালক নওশাদ মুস্তাফা, বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিইও শওকাত হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রফিউদ্দিন আহমেদ, ড্যাফোডিলের অধ্যাপক ড. রকিবুল কবির এবং এক্সক্লুসিভ ক্যান লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদ নাসির।
শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
ড. ধর্মকীর্তি মহাথের শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন
![]() |
| ড. ধর্মকীর্তি মহাথের ডক্টরেট) ডিগ্রি গ্রহন করার সময় |
ড. ধর্মকীর্তি মহাথেরের পিএইচডি গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল "Buddhist eschatological theory reflected in the concept of thirty one planes of existence" (একত্রিশ লোকভূমি ধারণায় প্রতিফলিত বৌদ্ধ এসক্যাটোলজিক্যাল তত্ত্ব)। তাঁর এই অর্জন বৌদ্ধ ধর্মতত্ত্বের গভীর গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।ড. ধর্মকীর্তি মহাথের একজন বহু প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব। তিনি মিরসরাই-সীতাকুন্ড বৌদ্ধ ভিক্ষু সমিতির সভাপতি, ধর্মকীর্তি ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রোগ্রেস সোসাইটি (DIPPS) এর প্রতিষ্ঠাতা, সুবক্তা, ত্রিপিটক বিশারদ এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা। এছাড়া তিনি আনন্দ মহাথের স্মৃতি সংসদ ও মিরসরাই-সীতাকুন্ড বৌদ্ধ সমিতিরও প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর এই বিরল অর্জন বাংলাদেশের বৌদ্ধ সমাজে এবং শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে।পরম শ্রদ্ধেয় ডক্টর ধর্মকীর্তি মহাস্হবির মহোদয়ের মতো তরুণ,মেধাবী, ধীমান সাংঘিক ব্যক্তিত্ব তাঁর মেধা, মননশীলতা, প্রজ্ঞা,শীল,বিনয় দিয়ে আমাদের বৌদ্ধ সমাজ গগনকে বিকশিত ও আলোকিত করবে এই আশা করছে বৌদ্ধ সমাজ।
শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
দীপ বড়ুয়ার এসএসসি পরীক্ষায় চমকপ্রদ সাফল্য: চট্টগ্রাম বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে চতুর্থ স্থান অর্জন
শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫
দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উক্যমং মারমা অংসিং
চট্টগ্রাম, ২২ জুন ২০২৪: একসময় ইটভাটায় কঠোর পরিশ্রম করা উক্যমং মারমা অংসিং এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পছন্দের ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হতে যাচ্ছেন। অভাব-অনটন আর প্রতিকূলতাকে জয় করে তার এই অর্জন অসংখ্য মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাউখালীর বেতবুনিয়ার পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম অংসিংয়ের। নিজেদের জমি নেই, বাবা দিনমজুর আর মা গৃহিণী। পরিবারের বড় ছেলে অংসিংকে অন্যের বাড়িতে বেড়ে উঠতে হয়েছে। দশম শ্রেণিতে থাকাকালীন তিনি মাকে হারান, এরপর বাবাকেও যেতে হয় জেলে। দু'মুঠো ভাতের জন্য কখনো ইটভাটায়, কখনো রেস্তোরাঁয় কাজ করেছেন।
২০২১ সালে অভিমান করে নানির বাড়ি থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামের রাউজানে ইটভাটায় কাজ নেন অংসিং। দিনে ৪০০ টাকা মজুরিতে তার পড়াশোনার ইতি টানার উপক্রম হয়। তবে প্রতিকূলতা তাকে দমাতে পারেনি। এসএসসি-তে জিপিএ ৫ পেয়ে তিনি প্রমাণ করেন তার মেধা। এরপর মামার সহযোগিতায় চট্টগ্রামের হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে ভর্তি হলেও, শহরে টিকে থাকার জন্য থালাবাসন মাজার কাজ নেন একটি রেস্তোরাঁয়। মাসে ছয় হাজার টাকা বেতনে কাজ করতে গিয়ে ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারতেন খুব কম।
এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষার আগে যক্ষ্মা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৩ মাস শয্যাশায়ী ছিলেন অংসিং। অর্থাভাবে চিকিৎসা না পেয়ে তাকে নিদারুণ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। বাবাও দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা হয়ে যান। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সহায়তায় বিনামূল্যে যক্ষ্মার ওষুধ পেয়ে সুস্থ হওয়ার পর তিনি আবার পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার পড়াশোনা ছেড়ে সংসারের হাল ধরার কথা বলা হলেও, তিনি তার লক্ষ্যে অবিচল থাকেন।
২০২৪ সালে আবার এইচএসসি পরীক্ষা দেন অংসিং। এবার কোচিং বা বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় বাড়িতে বসেই তিনি প্রস্তুতি নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি জোগাড় করতে ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। এরপর ঢাকার উত্তরায় একটি রেস্তোরাঁয় থালাবাসন মাজার কাজ নেন। সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ডিউটি করে, তিনি প্রতিদিন রাত ১টা থেকে ভোর ৪-৫টা পর্যন্ত রেস্তোরাঁর সিঁড়িতে বসে পড়াশোনা করতেন।
অংসিং বলেন, "কারো কথায় কান না দিয়ে এভাবেই পড়তে লাগলাম। ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ এলাকার সিনিয়রদের খুঁজে বের করতাম। তাঁদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিসংক্রান্ত নানা পরামর্শ নিতাম।" তার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'গ' ইউনিটে মেধাতালিকায় ২৫৩তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বি' ইউনিটে ৩৭৩তম স্থান অর্জন করেন। ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ২০ হাজার টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় জোগাড় হয়েছে।
অংসিং এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছেন। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তার মতো দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন তিনি। তার এই জীবনযুদ্ধ এবং অদম্য প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে সমাজের অনেক তরুণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাবে।
সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫
অধ্যাপক ড. সুবর্ণ বড়ুয়া'র রিসার্চ এক্সিলেন্স রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অর্জন
শুক্রবার, ২৩ মে, ২০২৫
বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান: ধর্ম প্রচার ও জ্ঞানের আলোকবর্তিকা
অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮২–১০৫৪ খ্রিঃ) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত, আচার্য এবং ধর্মপ্রচারক, যিনি পাল সাম্রাজ্যের শাসনামলে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিব্বতে বৌদ্ধ ধর্মের পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জন্ম ও শৈশব
অতীশ দীপঙ্করের জন্ম ৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে। তাঁর পিতা ছিলেন রাজা কল্যাণশ্রী এবং মাতা প্রভাবতী। জন্মের সময় তাঁর নাম রাখা হয় চন্দ্রগর্ভ।
শিক্ষা ও দীক্ষামাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন শুরু করেন এবং আচার্য বোধিভদ্রের নিকট শ্রমণ দীক্ষা গ্রহণ করেন, তখন তাঁর নাম হয় দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। পরবর্তীতে তিনি বিক্রমশীলা, ওদন্তপুরী এবং অন্যান্য বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রে অধ্যয়ন করেন। তিনি তন্ত্র, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ও চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন।
ধর্মপ্রচার ও তিব্বত যাত্রা
তিব্বতের রাজা ব্যাং-ছুব-য়ে-শেস’-ওদ অতীশ দীপঙ্করকে তিব্বতে আমন্ত্রণ জানান। প্রথমে তিনি এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন, কিন্তু পরবর্তীতে রাজা বন্দী হলে এবং তাঁর পুত্র ল্হা-লামা-ব্যাং-ছুব-ওদ অতীশ দীপঙ্করকে তিব্বতে আনতে উদ্যোগী হন। ১০৪০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তিব্বতের থোলিং বিহারে পৌঁছান এবং সেখানে বৌদ্ধ ধর্মের পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সাহিত্যকর্ম ও দর্শন
অতীশ দীপঙ্কর বহু গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য 'বোধিপথপ্রদীপ'। এই গ্রন্থে তিনি বোধিসত্ত্বের পথ এবং মহাযান বৌদ্ধ দর্শনের মৌলিক দিকগুলো ব্যাখ্যা করেন।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
তিব্বতে ১৭ বছর ধর্মপ্রচারের পর ১০৫৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিঃশেষ হন। তাঁর প্রধান শিষ্য ব্রোম-স্তোন-পা-র্গ্যল-বা'ই-'ব্যুং-গ্নাস কাদম্পা সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে গেলুকপা সম্প্রদায়ের ভিত্তি হয়।
সম্মান ও প্রভাব
২০০৪ সালে বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিদের তালিকায় তিনি ১৮ নম্বরে স্থান লাভ করেন। [5] তিব্বতে তাঁকে 'জোবো ছেনপো' বা 'মহাপ্রভু' উপাধিতে অভিহিত করা হয়। [3]
📌অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ছিলেন এক অনন্য বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত, যিনি জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবতাকে একসূত্রে বেঁধেছিলেন। তাঁর জীবন ও কর্ম আজও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২২
জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২২ পেলেন জয় বড়ুয়া লাভলুর রোবোলাইফ টেকনোলজিস
তারুণ্যের সর্ববৃহৎ প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলার জনপ্রিয় আয়োজন জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের ষষ্ঠ আসরের বিজয়ীদের নাম ঘোষিত হয়েছে। শনিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে বিজয়ীদের হাতে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২২ তুলে দেন সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের চেয়ারপারসন সজীব ওয়াজেদ জয়।
নতুন উদ্ভাবনী ভাবনা নিয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসা ৬০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে যাচাই বাছাই শেষে ১০ প্রতিষ্ঠানের হাতে উঠেছে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’।এ বছর পাঁচটি ক্যাটাগরির প্রতিটিতে দুটি করে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
উদ্ভাবনী ক্যাটাগরিতে কৃত্রিম হাত তৈরি ও প্রতিস্থাপনের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন রোবোলাইফ টেকনোলজিস। জয় বড়ুয়া লাবলু রোবোলাইফ টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও।২০১৮ সালে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের সহযোগিতায় এ সংগঠন যাত্রা শুরু করে। শুরুতেই তারা দুর্ঘটনা বা যেকোনও কারণে হাত হারানো ব্যক্তিদের কৃত্রিম হাত প্রতিস্থাপন করা শুরু করে। এভাবে অন্তত ২০ জনকে সহযোগিতা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে তারা ৩০ হাজার টাকায় কৃত্রিম হাত প্রতিস্থাপন করছে ও এর খরচ কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে সৌদি আরব ও তুরস্কে বেশ কিছু কৃত্রিম হাত রফতানিও করেছে এই প্রতিষ্ঠান।রোবোলাইফ টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জয় বড়ুয়া লাবলু বলেন, এ পুরস্কার আমাদের আরও সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। বাংলাদেশে যে হাত-পা বিহীন মানুষ আছে, তাদের জন্য এই রোবোটিক অঙ্গ দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে আরও কাজ করতে এই পুরস্কার আমাদের উৎসাহ দেবে।
সোমবার, ৭ জুন, ২০২১
ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন শতরূপা বড়ুয়া
ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের দায়িত্বে শতরূপা বড়ুয়া,আজ সোমবার তার দায়িত্ব বুঝে নেয়ার কথা। তিনি এর আগে ভয়েস অব আমেরিকার ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন।
বাংলাদেশের মেয়ে শতরূপা বড়ুয়া রাজধানী ঢাকার হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি বিশ্বখ্যাত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত হওয়ার আগে তিনি একজন নৃবিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে পরিচয় দেয়া শতরূপা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। এ বছরের প্রথম দিনই তিনি ওয়াশিংটন ডিসি এলাকাভিত্তিক সংগঠন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ফোরাম ইনকরপোরেটেড (ডুয়াফি)’র পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।
গত ২৮শে মে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধানের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন সংবাদ পাঠিকা, ভাষ্যকার ও সাংবাদিক রোকেয়া হায়দার।
উল্লেখ্য, আনোয়ারা থানার ঐতিহ্যবাহী তালসরা গ্রামের স্বনামধন্য পরিবারে জন্ম নেওয়া প্রকৌশলী জ্যোতিবিকাশ বড়ুয়ার মেয়ে শতরূপা বড়ুয়া।
[ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত]
রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১
বুয়েট ছাত্র সত্যজিত বড়ুয়া (জয়) পিএইচডি গবেষণার জন্য আমেরিকা যাত্রা
![]() |
| ছবিঃফেইসবুক থেকে নেওয়া |
বোয়ালখালি উপজেলার চরনদ্বীপ গ্রামের বিশিষ্ট সংগঠক ও সমাজসেবক, বাবু অনুপ বড়ুয়া (মিলটন)র প্রথম পুত্র এবং পরিবারের আলোকিত সন্তান।
সে বুয়েটে থেকে কৃতিত্বের সাথে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জন করে। ছাত্র জীবনে ট্যালেন্টপুলে প্রাথমিক বৃত্তি, অষ্টম শ্রেণীতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে গোল্ডেন জিপিএ এবং চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ থেকেও গোল্ডেন জিপিএ অর্জন সহ সর্বক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রাখে।
©ফেইসবুক থেকে নেওয়া

