রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলার অভিষেক অনুষ্ঠান আগামীকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, বোয়ালখালী:চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ, বোয়ালখালী উপজেলা শাখার উদ্যোগে অভিষেক, গুণীজন সংবর্ধনা ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান আগামীকাল ২৭ মার্চ (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে। আরাকান রোড সংলগ্ন পৈতন আউলিয়া দরগাহ গেইট সংলগ্ন সেতু কমিউনিটি সেন্টারে সকাল ৯টা থেকে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ:
অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান বাবু চিন্ময় বড়ুয়া (রিন্টু)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের প্রাক্তন জেলা গভর্নর লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া (পিএমজেএফ)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি বাবু সুমন বড়ুয়া (ভূপেল)।
সংবর্ধিত অতিথিবৃন্দ:
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন:
ট্রাস্টি রুবেল বড়ুয়া (হৃদয়): বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
সাধক ডালিম বড়ুয়া: প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, শ্রী শ্রী লোকনাথ সেবা আশ্রম, শাকপুরা।
লায়ন সোহেল বড়ুয়া: চেয়ারম্যান, সূর্য প্রতাপ গ্লোবাল লিমিটেড ও জীবন-শিখা ফাউন্ডেশন।
লায়ন মানস বড়ুয়া (রাসেল): সিইও, আওয়ার অনলাইন ও পরিচালক, প্রতিদিনের চট্টগ্রাম।
আলোচকবৃন্দ:
মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব প্রকৌশলী সীমান্ত বড়ুয়া। বিশেষ আলোচক হিসেবে থাকবেন কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান রোটারিয়ান সজীব বড়ুয়া ডায়মন্ড এবং বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু সঞ্চয়ন বড়ুয়া।
বিশেষ অতিথিবৃন্দ:
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থাকবেন:
* রোটারিয়ান অমরেশ বড়ুয়া চৌধুরী: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ যুব কেন্দ্রীয় কমিটি।
* কর আইনজীবী বুলবুল বড়ুয়া: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।
* লায়ন ব্যাংকার দুলাল কান্তি বড়ুয়া: সভাপতি, BHDS অপরাধ প্রতিরোধ কল্যাণ সংস্থা।
* প্রকৌশলী জয়সেন বড়ুয়া: সভাপতি, বোয়ালখালী সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদ।
* বাবু রূপায়ন কুমার বড়ুয়া: চেয়ারম্যান, মানারাত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, ঢাকা।
* বাবু সঞ্জয় বড়ুয়া পিন্টু: সভাপতি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ চট্টগ্রাম অঞ্চল।
* বাবু তাপস বড়ুয়া: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ চট্টগ্রাম অঞ্চল।
* বাবু মিহির বরণ বড়ুয়া: সাধারণ সম্পাদক, বোয়ালখালী সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদ।
* সাংবাদিক সুমন বড়ুয়া: মহাসচিব, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভ্রাতৃত্ব পরিষদ।
* লায়ন প্রকৌশলী দীপক বড়ুয়া: অর্থ সম্পাদক, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।
* বাবু সীমাজু বড়ুয়া: মহাসচিব, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশন।
* বাবু অলক বড়ুয়া: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ চট্টগ্রাম অঞ্চল।
* বাবু রিটন কুমার বড়ুয়া: ব্যবস্থাপক, ইস্টার্ন হাউজিং সোসাইটি লি.।
* বাবু প্রাণতোষ বড়ুয়া: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ বোয়ালখালী শাখা।
* বাবু সমীরণ বড়ুয়া টিটু: আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরাম, চট্টগ্রাম মহানগর।
* শিক্ষক উৎপল বড়ুয়া: সাবেক কার্যকরী সভাপতি, বোয়ালখালী সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদ।
* বাবু পল্টু কান্তি বড়ুয়া: সভাপতি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্ট বোয়ালখালী শাখা।
* বাবু জেশু বড়ুয়া চৌধুরী: অর্থ সম্পাদক, বোয়ালখালী সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদ।
আয়োজক ও সঞ্চালনা:
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেবেন বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু রাজু বড়ুয়া। সম্পাদকীয় বক্তব্য প্রদান করবেন সাধারণ সম্পাদক বাবু কাজল বড়ুয়া এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন অর্থ সম্পাদক শিক্ষক রাজীব বড়ুয়া। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু রাহুল বড়ুয়া এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বাবু দেবপ্রিয় বড়ুয়া।
আগামীকালকের এই মহতী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সবিনয় অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬
বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশন বোয়ালখালী শাখার অভিষেক, শিক্ষা সহায়তা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান সম্পন্ন
হিমেল বড়ুয়া (সম্পাদক-buddhistbd24): চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা সার্বজনীন শান্তিময় বিহারের মাঠে গত ২৩ মার্চ দিনব্যাপী বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশন, বোয়ালখালী উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির অভিষেক, শিক্ষা সহায়তা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশন বোয়ালখালী শাখার সভাপতি বাবু বিকাশ বড়ুয়া।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-০৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবু রুবেল বড়ুয়া হৃদয় এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাবু রুপাল বড়ুয়া।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক, বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য জাফর আহমেদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, সদস্য শওকত আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজগর, বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব নুরুন্নবী চৌধুরী, ঢাকা মানারাত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এর চেয়ারম্যান রুপায়ন কুমার বড়ুয়া,প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী, বি এন পি নেতা ওয়াহিদুল আলম ,বুড্ডিস্ট কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন এর পরিচালক এপেক্সিয়ান মৃণাল কান্তি বড়ুয়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্ট বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি পল্টু কান্তি বড়ুয়া, বোয়ালখালী সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদের কার্যকরী সভাপতি মিলু বড়ুয়া।মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশনের মহাসচিব বাবু সীমাজু বড়ুয়া।
সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন- সূর্য-প্রতাপ গ্লোবাল লি:- জীবন-শিখা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন সোহেল বড়ুয়া, দানশীল ও সমাজ স্বধর্ম সেবক সাধক ডালিম বড়ুয়া,সেগুন প্রসাদ বড়ুয়া,প্রকৌশলি শ্যামল বড়ুয়া এবং শৈবাল বড়ুয়া লোনেট।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- বোয়ালখালী সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদের প্রধান প্রতিষ্ঠা উদ্যোক্তা অধীর বড়ুয়া, মৈত্রীবন্ধন মানবিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আকাশ বড়ুয়া বাবুন বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশন পটিয়া শাখার সভাপতি শৈবাল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক ব্যাংকার লিটন কুমার বড়ুয়া,বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশনের যুগ্ন সচিব প্রভাষক সৈকত বড়ুয়া, উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অসীম বড়ুয়া, প্রধান সমন্বয়কারী দেবানন বড়ুয়া দেবু, সদস্য সচিব বিপ্লব বড়ুয়া বিভূ,এসহ বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশন, বৌদ্ধ যুব পরিষদ ও বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।অতিথিরা সংগঠনের ঐক্যর জাগরণ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন এবং প্রধান অতিথি আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ এমপিসহ অতিথি বৃন্দ প্রায় শতাধিক হিন্দু,মুসলিমসহ বোয়ালখালীর ১৩ টি বৌদ্ধ গ্রামের মেধাবী-অসহায় শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন। উক্ত অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বিশ্বদ্বীপ বড়ুয়া এবং শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক চম্পক বড়ুয়া।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের মাঝে সকালের নাস্তা,দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয় এবং রাফেল ড্র এর আয়োজন করা হয়।
বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
বোয়ালখালীতে প্রজ্ঞা আলো ভাবনা কুঠিরে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুরু কাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব আমুচিয়া গ্রামে অবস্থিত সাধনাপীঠ ‘প্রজ্ঞা আলো ভাবনা কুঠিরে’ আগামীকাল ১৯ ও ২০ মার্চ (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী এক ধর্মীয় পুণ্যোৎসব। পরম কল্যাণমিত্র ভদন্ত শীলানন্দ মহাস্থবিরের (ধুতঙ্গ ভান্তে) পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ভদন্ত অপ্রমেয় স্থবিরের পরিচালনায় এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ২য় বারের মতো আয়োজিত এই উৎসবে প্রধান ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আর্যপুরুষ ভদন্ত শীলানন্দ মহাস্থবির।এছাড়াও এই পুণ্যানুষ্ঠানে পূজ্য ভান্তের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আরণ্যিক আবাসিক ভিক্ষুসংঘ, জনপ্রতিনিধি ও অতিথিবৃন্দসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে পুণ্যকামী বৌদ্ধ জনসাধারণ উপস্থিত থাকবেন।
উক্ত পুণ্যানুষ্ঠানে আপনি/আপনারা উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে সুন্দর ও সাফল্যমন্ডিত করে বিপুল পুণ্যসঞ্চয়ের মাধ্যমে নির্বাণের হেতু সৃষ্টি করার
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণসমূহ
দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের কর্মসূচিতে রয়েছে:
* বুদ্ধকীর্তন ও ২৮ বুদ্ধ পূজা।
* ভদন্ত ধুতঙ্গ ভান্তের নবনির্মিত কুটির ও সংঘকুঠির উৎসর্গ।
* ম্যুরাল চৈত্য উদ্বোধন।
* অষ্টপরিষ্কার ও কল্পতরু দান।
* ধুতঙ্গ ভান্তেকে গাড়ি দান অনুষ্ঠান।
সময়সূচী
* ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার): দুপুর ২টায় ভদন্ত ধুতঙ্গ ভান্তের শুভাগমন। বিকেলে কুটির ও ম্যুরাল চৈত্য উদ্বোধন এবং সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বৌদ্ধ কীর্তনীয়া পরিষদ কর্তৃক ‘বুদ্ধকীর্তন’ পরিবেশনা।
* ২০ মার্চ (শুক্রবার): সকালে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, পিণ্ডচরণ এবং ২৮ বুদ্ধপূজা। দুপুরে অতিথিদের আপ্যায়ন, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং বিকেলে ধুতঙ্গ ভান্তের বিশেষ ধর্মদেশনা।
আয়োজকদের আহ্বান
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এই পুণ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নির্বাণ লাভের পথে এগিয়ে যেতে সকল পুণ্যকামী বৌদ্ধ জনসাধারণের উপস্থিতি কামনা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভিক্ষু সংঘ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
যাতায়াত: কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে সিএনজি বা টেম্পু যোগে কানুনগোপাড়া নেমে সেখান থেকে টমটম যোগে রাবার বাগান বা গাগুলা তলা হয়ে সরাসরি পূর্ব আমুচিয়া ‘প্রজ্ঞা আলো ভাবনা কুঠিরে’ পৌঁছানো যাবে।
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
রাউজানে বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা: অল্পের জন্য রক্ষা
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় ও বিহার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার শেষ রাতে বিহারের একটি অংশে হঠাৎ আগুনের শিখা জ্বলতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিভিয়ে ফেলায় বিহারের মূল স্থাপনাটি রক্ষা পায়, তবে বিহারের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ সাধারণ গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত নাশকতার চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
পুলিশের পদক্ষেপ: ঘটনার খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মামুন এবং এএসআই সানু মং মার্মা। পরিদর্শনকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য দিবস বড়ুয়া তাদের সাথে ছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তারা বিহারের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। দায়ীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ইউপি সদস্য দিবস বড়ুয়া বলেন, "ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছি।"
বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: রামুতে বৌদ্ধ ভিক্ষুর উদ্যোগে ১৫০০ রোজাদারকে ইফতার প্রদান
নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু |
কক্সবাজারের রামুতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রীমৎ কে শ্রী জ্যোতিসেন মহাথের। গত ১২ বছর ধরে ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এবারও উপজেলার দেড় হাজার (১,৫০০ জন) দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মুসলিম রোজাদারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানের বিবরণ:
গত বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল ৩টায় উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের জ্যোতিসেন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এই ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রামুর ঐতিহাসিক রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারের পরিচালক এবং বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার যুগ্ম মহাসচিব শ্রীমৎ কে শ্রী জ্যোতিসেন মহাথেরের সৌজন্যে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।
সম্প্রীতির বার্তা:
ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে শ্রীমৎ কে শ্রী জ্যোতিসেন মহাথের বলেন:
"বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে ধর্মের কোনো ভেদাভেদ নেই। বিহারের চারপাশে অসংখ্য মুসলিম পরিবার আমাদের প্রতিবেশী। মূলত নিম্ন আয়ের মুসলিম প্রতিবেশীদের কথা চিন্তা করেই প্রতিবছর আমরা এই উদ্যোগ নিয়ে থাকি। এ বছর ১২তম বারের মতো আমরা ১৫০০ রোজাদারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছি।"
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:
রমজানের এই সময়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুর পক্ষ থেকে উপহার স্বরূপ ইফতার সামগ্রী পেয়ে স্থানীয় মুসলিম রোজাদাররা অত্যন্ত সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
উল্লেখ্য যে, শ্রীমৎ কে শ্রী জ্যোতিসেন মহাথের দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত থেকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে এক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ (২০২৬-২০৩১) গঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সর্বোচ্চ সাংঘিক সংগঠন ‘কারকসভা’ বা কার্যনির্বাহী পরিষদ (২০২৬-২০৩১) গঠনের লক্ষ্যে গত ১০ই মার্চ ২০২৬ এক নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রামের অক্সিজেনস্থ অরন্দিম সার্বজনীন মৈত্রী বিহারে আয়োজিত এই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত এই পরিষদে পটিয়ার কর্তলা-বেলখাইন সদ্ধর্মলংকার বিহারের ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো সভাপতি এবং চট্টগ্রামের চাঁন্দগাও সার্বজনীন শাক্যমুণি বিহারের ভদন্ত এস. লোকজিৎ মহাথেরো মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রধান নেতৃবৃন্দ:
* সভাপতি: ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো (কর্তলা-বেলখাইন সদ্ধর্মলংকার বিহার, পটিয়া)।
* মহাসচিব: ভদন্ত এস. লোকজিৎ মহাথেরো (চাঁন্দগাও সার্বজনীন শাক্যমুণি বিহার)।
* যুগ্ম-মহাসচিব: ভদন্ত কে শ্রী জ্যোতিসেন মহাথেরো (রাং-কূট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহার, রামু)।
* সাংগঠনিক সচিব: ভদন্ত জিনরতন মহাথেরো (তালসরা আনন্দারাম বিহার, আনোয়ারা)।
* অর্থ সচিব: ভদন্ত ধর্মপাল মহাথেরো (কুমিল্লা কনকস্তুপ বিহার)।
* প্রচার ও প্রকাশনা সচিব: ভদন্ত জ্ঞানজিৎ মহাথেরো (বাকখালী সাধনানন্দ বিহার, পটিয়া)।
সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ভিক্ষু ও গুণীজনরা আশা প্রকাশ করেন যে, নবনির্বাচিত এই কার্যকরী পরিষদ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। শান্তি, সম্প্রীতি ও সদ্ধর্মের বাণী প্রসারে এই কমিটি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে সভায় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশন বোয়ালখালী শাখার অভিষেক অনুষ্ঠান ২৩ মার্চ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বোয়ালখালী: চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশনের নবগঠিত উপজেলা শাখার অভিষেক, শিক্ষা সহায়তা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান আগামী ২৩ মার্চ (সোমবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জ্যৈষ্ঠপুরা সর্বজনীন শান্তিময় বিহার প্রাঙ্গণে সকাল ৯:৩০ মিনিট থেকে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন চট্টগ্রাম-০৮ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এরশাদ উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মেহেদী হাসান ফারুক।
অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করবেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবু রুবেল বড়ুয়া হৃদয়। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব বাবু সীমাজু বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি বাবু বিকাশ বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানে সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
- লায়ন সোহেল বড়ুয়া (চেয়ারম্যান, সূর্য প্রতাপ গ্লোবাল লিমিটেড)
- সেগুন প্রসাদ বড়ুয়া (উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সওজ)
- প্রকৌশলী শ্যামল বড়ুয়া (অধ্যক্ষ, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, রাউজান)
- সাধক ডালিম বড়ুয়া (প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবা সেবাশ্রম)
- বাবু শৈবাল বড়ুয়া লোনেট (সাধারণ সম্পাদক, বেদপাড়া নবদ্বীপ মিতালী সংসদ)
অভিষেক, শিক্ষা সহায়তা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদ-২০২৬ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই আয়োজনে সাধারণ সম্পাদক রূপাল বড়ুয়া ,চেয়ারম্যান অসীম বড়ুয়া, সদস্য-সচিব বিপ্লব বড়ুয়া বিভু এবং প্রধান সমন্বয়কারী দেবানন বড়ুয়া দেবু সকল ধর্মপ্রাণ মানুষকে উপস্থিত থাকার জন্য বিনম্র অনুরোধ জানিয়েছেন।অভিষেক, শিক্ষা সহায়তা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদ ২০২৬ কর্তৃক অনুষ্ঠানটি সফল করতে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ঢাবির অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্ব স্ব নামের পার্শ্বে উল্লিখিত ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এবার গবেষণা ও প্রশিক্ষণে স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, বৌদ্ধতাত্ত্বিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। বর্তমানে ড. সুকোমল বড়ুয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগে সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ একুশে পদকে ভূষিত করেছিল। তিনি ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
।
উখিয়ায় খাল থেকে স্কুলছাত্র কৌশিক বড়ুয়া'র মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের উখিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রেজু খাল থেকে স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকাল, ৭টার দিকে উখিয়ার রেজুরকুল এলাকার রেজুখাল থেকে কৌশিক বড়ুয়া বাঁধন (১৩) নামের ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত বাঁধন স্থানীয় বাসিন্দা পতন বড়ুয়ার ছেলে।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে বাঁধনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ছেলেকে না পেয়ে তার বাবা পতন বড়ুয়া উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
রাত ১০টার দিকে বাঁধনের এক বন্ধু পরিবারের সদস্যদের জানায়, সন্ধ্যার দিকে তারা রেজুখালের মোহনায় একটি বড়ই গাছ থেকে বড়ই পেড়ে খাচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা দীপক বড়ুয়া বলেন, ওই সময় কথিত ‘অদৃশ্য শক্তি’র ডাকে বাঁধন খালে পড়ে যায় বলে তার বন্ধু দাবি করে। তবে ভয়ে সে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানায়নি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে খালসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। নিখোঁজ কিশোরকে খোঁজার পাশাপাশি পাশের একটি বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু ও স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় রীতিতে প্রার্থনা ও ত্রিপিটক থেকে মন্ত্র পাঠ করেন।
আজ ভোরে খালের পানিতে বাঁধনের মরদেহের অংশ ভাসতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক বলেন, দুর্ঘটনাবশত বা অন্য কোনো কারণে বাঁধন খালে পড়ে মারা যেতে পারে। তবে ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় কুসংস্কার ছড়ানো হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের ঘটনাকে ‘ঢালি নেওয়া’ বলা হলেও এর বাস্তব কোনো প্রমাণ নেই। বিষয়টি পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।এদিকে প্রথম সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাঁধনের বাবা পতন বড়ুয়া ও মা শিখা বড়ুয়া। সন্তানের শোকে কাতর হয়ে মা শিখা বড়ুয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি কিছুই চাই না, আমার বাঁধনকে ছাড়া। আমার বাঁধনকে এনে দাও।”
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান আগামীকাল থেকে শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক | রাউজান, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মহামান্য ত্রয়োদশ সংঘরাজ, শাসনশোভন ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের মহোদয়ের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রামের রাউজানের বিনাজুরী শ্মশান বিহার সংলগ্ন মাঠে শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় বৌদ্ধ শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী 'চন্দন চিতার' মাধ্যমে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
প্রথম দিন: ২৮ জানুয়ারি (বুধবার)
বুধবার বিকেল ৩টায় শাসনশোভন ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের'র জীবনদর্শন ও কর্মভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি ভদন্ত বিনয়পাল মহাথেরর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের উপসংঘরাজ ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উদযাপন পরিষদের সভাপতি ধর্মসারখী ভদন্ত শাসনানন্দ মহাথের।
আলোচনায় অংশ নেবেন:
পার্বত্য সংঘরাজ ভদন্ত প্রজ্ঞাবন্দ মহাথের, ভদন্ত ড. ধর্মকীর্তি মহাথের, ভদন্ত ড. সংঘপ্রিয় মহাথের, ভদন্ত শাসনরক্ষিত মহাথের, শাসনকান্ডারী ভদন্ত ধর্মমিত্র মহাথের, অধ্যাপক সুমেধানন্দ মহাথের, শিক্ষাবিদ এম. বোধিমিত্র মহাথের, ভদন্ত প্রিয়ানন্দ মহাথের, অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, ডা. প্রীতি বড়ুয়া, অধ্যাপক ডা. অনুপম বড়ুয়া, অধ্যাপক ডা. এ. এম. রাইহান উদ্দিন, অধ্যাপক তুষার কান্তি বড়ুয়া, অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিটন কুমার বড়ুয়া, সাংবাদিক বিপ্লব বড়ুয়া এবং লায়ন ধনঞ্জয় বড়ুয়া রুবেল।
দ্বিতীয় দিন: ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার)
বৃহস্পতিবার সকালে মহামান্য সংঘরাজের নির্বাণ সুখ কামনায় অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার সহসভাপতি রাজগুরু ভদন্ত অভয়ানন্দ মহাথেরর সভাপতিত্বে আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ২৯তম সংঘনায়ক অধ্যাপক ভদন্ত বনশ্রী মহাথের। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার উপসংঘনায়ক ভদন্ত রতনশ্রী মহাথের এবং প্রধান জাতি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার সহ-উপসংঘনায়ক সদ্ধর্মজ্যোতি ভদন্ত সুনন্দ মহাথের।
বিকেলে অনিত্য ও স্মৃতিচারণ সভা বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতি সদ্ধর্মরত্ব ভদন্ত জ্ঞানানন্দ মহাথেরর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে। এতে আশীর্বাদক হিসেবে থাকবেন সদ্ধর্মরশ্মি ভদন্ত রতনশ্রী মহাথের ও সদ্ধর্মজ্যোতি ভদন্ত সুনন্দ মহাথের। এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং প্রধান জাতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ২৯তম সংঘনায়ক অধ্যাপক ভদন্ত বনশ্রী মহাথের।
তৃতীয় দিন: ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার)
শুক্রবার সকালে ত্রয়োদশ সংঘরাজের নির্বাণ সুখ কামনায় অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উপসংঘরাজ শাসনভাস্বর ভদন্ত শাসনপ্রিয় মহাথেরর সভাপতিত্বে আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপসংঘরাজ কর্মযোগী ভদন্ত শীলরক্ষিত মহাথের এবং উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মদর্শী মহাথের। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির সভাপতি অজিত রঞ্জন বড়ুয়া।
বিকেলে অনুষ্ঠানের মূল পর্বে স্মৃতিচারণ সভা বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার চতুর্দশ সংঘরাজ শাসনস্তম্ভ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথেরর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে। এতে আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপসংঘরাজ সদ্ধর্মবারিধি ভদন্ত প্রিয়দর্শী মহাথের, উপসংঘরাজ কর্মযোগী ভদন্ত শীলরক্ষিত মহাথের, উপসংঘরাজ শাসনভাস্বর ভদন্ত শাসনপ্রিয় মহাথের এবং উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মদর্শী মহাথের। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং প্রধান জাতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও চন্দন চিতা
অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ডের ধাম্মাকায়া ফাউন্ডেশন, লন্ডনের জেতবন বিহার, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থাকবেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে 'চন্দন চিতার' অগ্নিশিখায় মহামান্য সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের মহোদয়ের মরদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।আগামী ৩১ জানুয়ারি শনিবার ভোরে চিতাভস্ম সংগ্রহের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।
জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশের সকল ধর্মপ্রাণ মানুষকে এই ঐতিহাসিক পুণ্যময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
সীমা বড়ুয়া'র উন্নত চিকিৎসায় অগ্রদূত বৌদ্ধ সংগঠন আর্থিক সহায়তা প্রদান
চট্টগ্রামের রাউজান থানার অন্তগর্ত পশ্চিম গহিরা গ্রামের ফুসফুসে ক্যন্সার রোগে আক্রান্ত সীমা বড়ুয়া'র উন্নত চিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতায় অগ্রদূত বৌদ্ধ সংগঠন ৩১,৮১৮/-(একত্রিশ হাজার আটশত আঠারো টাকা) আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
গতকাল শনিবার সীমা বড়ুয়া'র কাছে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে ক্যন্সার রোগে ভুগছেন সীমা বড়ুয়া। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তার অনেক টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় চিকিৎসার খরচ বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে সীমা বড়ুয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের ধর্মীয় এবং সেবামূলক সংগঠন"অগ্রদূত বৌদ্ধ সংগঠন(DSTBP)" এর কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হলে সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে অগ্রদূত সংগঠন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
অগ্রদূতের উদ্যোগে সংগৃহীত অর্থ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন অগ্রদূত বৌদ্ধ সংগঠনের অর্থ সম্পাদক অভি বড়ুয়া এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফাগুন বড়ুয়া।
যারা আমাদের অর্থ এবং শ্রম দিয়ে সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি অগ্রদূত পরিবার কৃতজ্ঞ বলে জানিয়েছেন অগ্রদূত সংগঠনের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, অগ্রদূত বৌদ্ধ সংগঠন দীর্ঘ নয় বছর ধরে ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি মানুষের সেবায় নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছে।
বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
চট্টগ্রামে ‘জাতীয় বৌদ্ধ যুব উৎসব’ আগামী ১৬ জানুয়ারি।
গোবিন্দ ঠাকুর ও গুণালঙ্কার মহাথরের স্মরণে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ১৬ জানুয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম |
চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন জোবরাস্থ পরম সিদ্ধিপুরুষ গোবিন্দ ঠাকুর স্মৃতি মন্দির প্রাঙ্গণে আগামী ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার (০২ মাঘ ১৪৩২ বাংলা) এক দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। পরম পূজনীয় সিদ্ধি পুরুষ গোবিন্দ ঠাকুর ও উপ-সংঘরাজ ভদন্ত গুণালঙ্কার মহাথরের স্মরণে এই ‘আটাশ বুদ্ধের পূজা, অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান ও সদ্ধর্মানুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানের সময়সূচী:
শুক্রবার সকাল ৬:০১ মিনিটে আটাশ বুদ্ধের পূজার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, প্রভাতফেরি, সদ্ধর্মদেশনা, অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান এবং ভিক্ষুসংঘকে পিণ্ডদান অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২:০১ মিনিটে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে দুপুরের পর্ব সমাপ্ত হবে।
অতিথি ও আলোচকবৃন্দ:
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মহামান্য চতুর্দশ সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপ-সংঘরাজ ভদন্ত প্রিয়দর্শী মহাথের। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করবেন উপ-সংঘরাজ ভদন্ত শীলরক্ষিত মহাথের। প্রধান জ্ঞাতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সদ্ধর্মবারidhi ভদন্ত প্রিয়ানন্দ মহাথের।
এছাড়াও প্রধান আলোচক হিসেবে প্রফেসর ড. জিনবোধি মহাথের এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে ধর্মসারথি ভদন্ত শাসনানন্দ মহাথেরসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ও পণ্ডিত ভিক্ষুসংঘ সদ্ধর্মদেশনা প্রদান করবেন।
বিশেষ আকর্ষণ:
মূল অনুষ্ঠানের আগের দিন অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় ‘রাইজিং ব্রাদার্স, পশ্চিম গহিরা’র পরিবেশনায় এক বিশেষ গীতিনাট্য ‘অঙ্গুলিমাল’ পরিবেশিত হবে।
উদযাপন পরিষদ ও গুরু গোবিন্দ ঠাকুর স্মৃতি মন্দিরের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই মহতী পুণ্যোৎসবে সদ্ধর্মপ্রাণ দায়ক-দায়িকাদের উপস্থিত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬
ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই
না ফেরার দেশে চলে গেলেন ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া।আজ (২ জানুয়ারি) শুক্রবার সকাল ৭ টায় চট্টগ্রামের রাউজানস্থ জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।তিনি ২০০৬ সাল থেকে বাধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকের পর সুকুমার বড়ুয়ার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এর পর থেকেই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্ম নেন ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া।ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে ছয় টাকায় বেড়ার ঘর ভাড়া করে স্বাধীনভাবে লেখালেখি শুরু করেন।কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর আর মুকুলের মাহফিলে তার লেখা ছাপা হতে থাকে। ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসরে যান।প্রায় ৬০ বছর ধরে ছড়া লিখে সুকুমার বড়ুয়া ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ ইত্যাদি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক, নৈতিক শিক্ষামূলক রচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর রাজনৈতিক বার্তাও তার লেখায় এসেছে।
‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, সুকমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার (২ খণ্ড), ‘যুক্তবর্ণ‘, ‘চন্দনার পাঠশালা’, ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’ সুকুমার বড়ুয়ার উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই।
ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সরকার ২০১৭ সালে সুকুমার বড়ুয়াকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
এছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা, চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা তিনি পেয়েছেন।
প্রয়াত সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাথেরের স্মরণে আজ এবং কাল "জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান
বাংলাদেশী বৌদ্ধদের শতব্দীর প্রাচীন সংগঠন বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির আয়োজনে একুশে পদকপ্রাপ্ত, বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয়গুরু, সদ্য প্রয়াত ত্রয়োদশ সংঘরাজ, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের’র দুই দিনব্যাপী জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান আজ ১ ও আগামীকাল ২ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতি ও শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজ মাঠে (প্যারেড ময়দান) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। আজ ১ জানুয়ারি দুপুর ২ টার দিকে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টার যোগে ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের’র পবিত্র মরদেহ আনা হয় বিনাজুড়ি গ্রাম থেকে। র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্যারেড মাঠে নবনির্মিত অস্থায়ী আসনে মহাথের’র পবিত্র মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়। রাতে পরিবেশিত হবে বুদ্ধ কীর্তন ও স্বেচ্ছাসেবকসহ উপ-পরিষদের দায়িত্ব বন্টন করা হবে। ২ জানুয়ারির অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে রয়েছে সকালে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, অষ্টপরিস্কারসহ সংঘদান, বিকালে অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বৌদ্ধ ধর্মীয়গুরু উপসংঘরাজ শিক্ষাবিদ শাসনপ্রিয় মহাথের। আশির্বাদ প্রদান করবেন চতুর্দশ সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তি সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ.ফ. ম. খালিদ হোসেন। সভার উদ্বোধন করবেন- সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। সংবর্ধিত অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন। স্বাগত ভাষন দেবেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান অজিত রঞ্জন বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি থাকবেন- চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বিপিএম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল মিঞা, ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাই কমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন, প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া. চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী প্রমূখ। দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে জাতি, ধর্ম, নির্বিশেষে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন- পূজনীয় ত্রয়োদশ সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের’র জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন আদর্শ কুমার বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী অসীম বড়ুয়া, প্রধান সমন্বয়কারী সপু বড়ুয়া।
শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
রাঙ্গুনিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ধুতাঙ্গ ভান্তের ৪৯তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গুনিয়া রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বনাশ্রম ভাবনা কুঠিরে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে শীলানন্দ মহাস্থবিরের (ধুতাঙ্গ ভান্তে) ৪৯তম শুভ জন্মজয়ন্তী। ভূমিদান ও একক সদ্ধর্মদেশনা উপলক্ষে আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান গতকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সমাপ্ত হয়েছে।
গতকাল সমাপনী দিনে শুক্রবার ভোর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। দিনের কর্মসূচীর মধ্যে ছিল ধুতাঙ্গ ভান্তে কর্তৃক ৪৯তম জন্মদিনের কেক কাটা, দায়ক-দায়িকা ও উপাসক-উপাসিকাদের আশীর্বাদ প্রদান এবং ভিক্ষু সংঘের পিন্ডচারণ। এছাড়া মঙ্গলাচরণ, উদ্বোধনী ও বরণ সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে দানকৃত ভূমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
ত্যাগের মহিমায় নির্বাণ লাভের আহ্বান
সদ্ধর্মদেশনা প্রদানকালে শীলানন্দ স্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে) উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় নীতি ও উপদেশ প্রদান করেন। মৈত্রী বার্তার মাধ্যমে তিনি নির্বাণ লাভের পথ ও অন্তরায় সৃষ্টিকারী বিভিন্ন প্রলোভন (মার) জয় করার বিষয়ে আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন:
"নির্বাণ লাভের জন্য বুদ্ধের ত্যাগময় শিক্ষা ধারণ করতে হবে। বুদ্ধের অহিংসা, মুক্তি ও ত্যাগের বাণী এবং নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত ধর্ম।"সেই সাথে বিভিন্ন উদাহরণ দিয়েছে ধর্মদেশনা প্রদান করে।
দেশজুড়ে ভক্তদের মিলনমেলা
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে রাঙ্গুনিয়া ছাড়াও, চট্টগ্রাম দক্ষিন,উত্তর জেলা, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন। ভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আগত পুণ্যার্থীরা জানান, ভান্তের উপদেশগুলো তারা ব্যক্তিজীবনে ধারণ ও চর্চা করার চেষ্টা করবেন।
বিশ্বজিৎ বড়ুয়া ও লুসি রানী বড়ুয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চৌধুরী দীপংকর বড়ুয়া, বিপ্লব বড়ুয়া, পান্না লাল বড়ুয়া, বিমান বড়ুয়া, অঞ্জন বড়ুয়া, পলাশ বড়ুয়া এবং কমল বরন বড়ুয়া প্রমুখ।
বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
চন্দনাইশে বিনয়শীল সোমানন্দ মহাস্থবিরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান আগামীকাল
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ফতেনগর মহাবোধি চত্বরে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ফতেনগর সার্বজনীন পূর্ব সুনীতি বিহারের অধ্যক্ষ, বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু বিনয়শীল সোমানন্দ মহাস্থবিরের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান। দুই দিনব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সমাপ্ত হবে।
আজ দুপুর ১২:৩০ মিনিটে মহাস্থবিরের অনিত্যদেহ ফতেনগর থেকে রথ শোভাযাত্রা ও বুদ্ধকীর্তন সহকারে তাঁর জন্মভূমি সুচিয়া সুখানন্দ বিহারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অন্তিম বন্দনা ও বৈকালিক ভেষজ অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় স্মৃতিচারণ সভা ও ব্যাজ প্রদান এবং রাত ৯টায় বিমল বড়ুয়া ও শিক্ষক সুমন বড়ুয়ার পরিবেশনায় বুদ্ধকীর্তন শুরু হয়।
আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সকাল ৭টায় অনিত্যদেহ শোভাযাত্রা সহকারে গ্রাম প্রদক্ষিণ ও সভামণ্ডপে নেওয়া হবে। সকাল ৯টায় শুরু হবে প্রথম পর্যায়ের সদ্ধর্মসভা। দুপুরে ২টা থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের স্মৃতিচারণ ও সদ্ধর্মসভা।দিনটি প্রধান দুটি পর্বে বিভক্ত, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
১ম পর্ব: সকাল ৯টা (সদ্ধর্মসভা)
সকাল ৭টায় অনিত্যদেহ শোভাযাত্রা সহকারে গ্রাম প্রদক্ষিণ শেষে সকাল ৯টায় প্রথম পর্বের সদ্ধর্মসভা শুরু হবে। এই পর্বের দায়িত্বে থাকবেন:
- সভাপতি: সদ্ধর্মনিধি ধর্মদর্শী মহাস্থবির (মাননীয় উপ-সঙ্ঘরাজ, বাংলাদেশ সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা)।
- প্রধান জ্ঞাতি: ভদন্ত শীল রক্ষিত মহাস্থবির (অধ্যক্ষ, জামিজুরী সপ্রমাণ বৌদ্ধ বিহার, চন্দনাইশ)।
- উদ্বোধক: সদ্ধর্মকথিক অতূলানন্দ মহাস্থবির (অধ্যক্ষ, সুচিয়া সুখানন্দ বিহার, চন্দনাইশ)।
- মুখ্য ধর্মালোচক: কর্মবীর দেবমিত্র মহাস্থবির (সমাজ কল্যাণ সচিব, বাংলাদেশ সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা)।
- প্রধান সদ্ধর্মদেশক: কে. শ্রী. জ্যোতিসেন মহাস্থবির (পরিচালক, রামু রাঙ্কুট বনাশ্রম- রামু, কক্সবাজার)।
- প্রধান অতিথি: বাবু অজিত রঞ্জন বড়ুয়া (চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি)।
- বিশেষ অতিথি: লায়ন টিংকু বড়ুয়া (সাধারণ সম্পাদক, পটিয়া সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদ)।
২য় পর্ব: দুপুর ২টা (স্মৃতিচারণ ও মূল সদ্ধর্মসভা)
দুপুরের মূল অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন:
- সভাপতি: শাসনস্তম্ভ ধর্মপ্রিয় মহাস্থবির (মহামান্য চতুর্দশ সঙ্ঘরাজ, বাংলাদেশ সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা)।
- আশীর্বাদক: সদ্ধর্মবারিধি প্রিয়দর্শী মহাস্থবির ও শাসনভাস্কর শাসনপ্রিয় মহাস্থবির (মাননীয় উপ-সঙ্ঘরাজদ্বয়)।
- উদ্বোধক: সদ্ধর্মজ্যোতিকা ধ্বজ বসুমিত্র মহাস্থবির (অধ্যক্ষ, শাকপুরা সার্বজনীন তপোবন বিহার)।
- প্রধান ধর্মদেশক: ড. সঙ্ঘপ্রিয় মহাস্থবির (মহাসচিব, বাংলাদেশ সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা)।
- প্রধান অতিথি: ড. কর্নেল অলি আহমদ, বীর বিক্রম (অব.) (সভাপতি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি)।
- প্রধান জ্ঞাতি: প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া (একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ)।
- সংবর্ধিত অতিথি: ডা. শাহাদাত হোসেন (মাননীয় মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন)।
- প্রধান আলোচক: প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়)।
অনুষ্ঠানটি ফতেনগর মহাবোধি চত্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজক কমিটি তথা ‘বিনয়শীল সোমানন্দ মহাস্থবিরের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন পরিষদ-২০২৫’ সকল পুণ্যার্থীর উপস্থিতি কামনা করেছেন।
গত ১৫ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২.৫৫ মিনিটে এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে বিনয়শীল সোমানন্দ মহাস্থবির শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন
রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
‘অগ্রদূত’ বৌদ্ধ সংগঠনের ৯ম বর্ষপূর্তি উদযাপন সম্পন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বোয়ালখালী:শান্তি, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন ‘অগ্রদূত’-এর ৯ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের বোয়ালখালীস্থ জ্যৈষ্ঠপুরা অর্হৎ মাহাসি সতিপট্ঠান মহারণ্যে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচি:
উৎসবের শুরুতে সংগঠনের সকল সদস্য চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে সমবেত হন এবং সেখান থেকে জ্যৈষ্ঠপুরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত মহারণ্যে সকালে বুদ্ধ পূজা এবং পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বোয়ালখালীর আমুচিয়া গুচ্ছ গ্রামে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
ধর্মীয় সভা ও দেশনা:
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে উদযাপন পরিষদের সমন্বয়কারী ফাগুন বড়ুয়া সংগঠনের ইতিপূর্বের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং অর্থ সচিব অভি বড়ুয়া পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন। অনুষ্ঠানে দিকনির্দেশনামূলক ধর্মোপদেশ প্রদান করেন অগ্রদূত বৌদ্ধ সংগঠনের ধর্মীয় সম্পাদক ভিক্ষু আনন্দপ্রিয়।
জ্যৈষ্ঠপুরা অর্হৎ মাহাসি সতিপট্ঠান মহারণ্যের অধ্যক্ষ উ. সুমনশ্রী থের সদ্ধর্ম দেশনা প্রদানকালে সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার শেষে অষ্টপরিষ্কার দান, বুদ্ধ প্রতিবিম্ব দানসহ বিভিন্ন দানসামগ্রী উৎসর্গ করা হয়। পরবর্তীতে পূজনীয় ভান্তেদের উপস্থিতিতে বর্ষপূর্তির কেক কাটা হয়।
উপসংহার:দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষ পর্বে বোয়ালখালী থানার শ্রীপুর-পশ্চিম জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামে অসহায়দের মাঝে পুনরায় শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে।
উদযাপন পরিষদ:
উল্লেখ্য, বর্ষপূর্তি সফল করতে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি উদযাপন পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। এতে আহ্বায়ক হিসেবে হিমেল বড়ুয়া, সদস্য সচিব রবিন বড়ুয়া, অর্থ সচিব অভি বড়ুয়া, প্রধান সমন্বয়কারী অভিষেক বড়ুয়া, সমন্বয়কারী ফাগুন বড়ুয়া এবং সদস্য হিসেবে রূপনা বড়ুয়া ও ইমন বড়ুয়া গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাস্থবির চতুর্দশতম মহামান্য সংঘরাজ মনোনীত
বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার কারক সভার মিটিং এ বিনাজুরী শ্মশান বিহারে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ থেরবাদী সাংঘিক সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহামান্য সংঘরাজের মহাপ্রয়াণ করার ১৫ দিনের মধ্যে কারকসভা কর্তৃক পরবর্তী সংঘরাজ মনোনীত করা বাধ্যবাধকতা রয়েছে তাই কারকসভা গঠনতন্ত্রের ব্যত্যয় না গঠিয়ে গতকাল ২৪ নভেম্বর পশ্চিম বিনাজুরি শ্মশান বিহারে অনুষ্টিত কারকসভায় বৌদ্ধ রেনেসাঁর অন্যতম বৌদ্ধ গ্রাম পাহাড়তলী মহামুণি মহানন্দ সংঘরাজ বিহারের পূজনীয় অধ্যক্ষ, সংঘরাজ মহাসভার মাননীয় জ্যেষ্ঠ উপ-সংঘরাজ শাসনস্তম্ভ পরমারাধ্য ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাস্থবির মহোদয় চতুর্দশতম মহামান্য সংঘরাজ মনোনীত হয়েছেন। পরম পূজনীয় ত্রয়োদশ সংঘরাজ অগ্গামহাপণ্ডিত সদ্ধর্মজ্যোতিকাধ্বজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির মহোদয়ের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পূর্বরাত্রি সংঘরাজ মহাসভার সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংঘ প্রধান ও চতুর্দশ সংঘরাজ পদে অনুমোদন ও অভিষিক্ত হবেন বলে জানা গেছে।